Sunday, February 12, 2023
ভালোবাসা দিবসের ইতিকথা _ 14th February সেন্ট ভ্যালেন্টাইন দিবস
Sunday, November 13, 2022
শিশু দিবস Children's day _ PanditJawaharLalNehru
Sunday, September 4, 2022
সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন | Dr. Sarvepalli Radhakrishnan
সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, ভারতে শিক্ষক দিবসরূপে পালন হচ্ছে।
একজন আদর্শ শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ [৫ই সেপ্টেম্বর, ১৮৮৮ – ১৭ই এপ্রিল, ১৯৭৫] আজকের দিনে তামিলনাডুর তিরুট্টানিতে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি (১৯৫২-১৯৬২) এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি(১৯৬২-৬৭) ছিলেন।
একাধারে রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ও অধ্যাপক এই শান্ত মানুষটি ছাত্রজীবনে অতি মেধাবী ছিলেন। জীবনে কোন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি। বিভিন্ন বৃত্তির মাধ্যমে তার ছাত্র জীবন এগিয়ে চলে। ১৯০৫ সালে তিনি মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার বিষয়টি ছিল ‘বেদান্ত দর্শনের বিমূর্ত পূর্বকল্পনা’(The Ethics of the Vedanta and its Metaphysical Presuppositions)।
তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। দূর সম্পর্কের এক দাদার কাছ থেকে দর্শনের বই পান এবং তখনই ঠিক করেন তিনি দর্শন নিয়ে পড়বেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করার জন্য তিনি "বেদান্ত দর্শনের বিমূর্ত পূর্বকল্পনা " (The Ethics of the Vedanta and its metaphysical Presuppositions) বিষয়ে একটি গবেষণা মূলক প্রবন্ধ লেখেন। তিনি ভেবেছিলেন তার গবেষণামূলক প্রবন্ধ দর্শনের অধ্যাপক বাতিল করে দেবেন। কিন্তু অধ্যাপক অ্যালফ্রেড জর্জ হগ তার প্রবন্ধ পড়ে খুবই খুশি হন। এই প্রবন্ধ যখন ছাপানো হয় তখন রাধাকৃষ্ণাণ এর বয়স ২০ বছর।
বিশ্বের দরবারে তিনি অতি জনপ্রিয় দার্শনিক অধ্যাপক হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩১ সালে তাকে British knighthood-এ সম্মানিত করা হয়। ১৯৫৪তে ভারতরত্ন উপাধি পান।
প্রথম জীবনে তিনি মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করেন (১৯১৮)। এসময় তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পত্রিকায় লিখতেন। সে সময়েই তিনি লেখেন তার প্রথম গ্রন্থ ‘The Philosophy of Rabindranath Tagore’। দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘The Reign of Religion in Contemporary Philosophy’প্রকাশিত হয় ১৯২০সালে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপনা করেন। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বারবার অধ্যাপনার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার গুণমুগ্ধ ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন ‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদ্যাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।
তথ্যসূত্র: Wikipedia
Wednesday, August 10, 2022
শহীদ ক্ষুদিরাম বসু - ভারতীয় বাঙালি বিপ্লবী
ক্ষুদিরাম বসু
(ভারতীয় বাঙালি বিপ্লবী)
ক্ষুদিরাম বসু (৩ ডিসেম্বর ১৮৮৯ — ১১ আগস্ট ১৯০৮) ছিলেন একজন ভারতীয়-বাঙালি বিপ্লবী যিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করেছিলেন।
ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকির সঙ্গে মিলে গাড়িতে ব্রিটিশ বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড আছে ভেবে তাকে গুপ্তহত্যা করার জন্যে বোমা ছুঁড়েছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড অন্য একটা গাড়িতে বসেছিলেন, যে ঘটনার ফলে দুজন ব্রিটিশ মহিলার মৃত্যু হয়, যারা ছিলেন মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা। প্রফুল্ল চাকি গ্রেপ্তারের আগেই আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হন। দুজন মহিলাকে হত্যা করার জন্যে তার বিচার হয় এবং চূড়ান্তভাবে তার ফাঁসির আদেশ হয়।
ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল ১৮ বছর, ৭ মাস এবং ১১ দিন, যেটা তাকে ভারতের কনিষ্ঠতম ভারতের বিপ্লবী অভিধায় অভিষিক্ত করেছিল। বাল গঙ্গাধর তিলক, তার সংবাদপত্র কেশরীতে দুজন নবীন যুবককে সমর্থন করে আওয়াজ তোলেন অবিলম্বে স্বরাজ চাই। যার ফল হয় অবিলম্বে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার দেশদ্রোহিতার অপরাধে তিলককে গ্রেপ্তার করে।
প্রারম্ভিক জীবন :
ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত মেদিনীপুর শহরের কাছাকাছি (বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা) কেশপুর থানার অন্তর্গত মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ছিলেন নাড়াজোলের তহসিলদার। তার মার নাম লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী। তিন কন্যার পর তিনি তার মায়ের চতুর্থ সন্তান। তার দুই পুত্র অকালে মৃত্যুবরণ করেন। অপর পুত্রের মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি তখনকার সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তার পুত্রকে তার বড়ো দিদির কাছে তিন মুঠো খুদের (চালের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। খুদের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলে শিশুটির নাম পরবর্তীকালে ক্ষুদিরাম রাখা হয়। ক্ষুদিরামের বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর তখন তিনি তার মাকে হারান। এক বছর পর তার পিতার মৃত্যু হয়। তখন তার বড়ো দিদি অপরূপা তাকে দাসপুর থানার এক গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অপরূপার স্বামী অমৃতলাল রায় ক্ষুদিরামকে তমলুকের হ্যামিল্টন হাই স্কুলএ ভর্তি করে দেন।
১৯০২ এবং ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রী অরবিন্দ এবং সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করেন। তারা স্বাধীনতার জন্যে জনসমক্ষে ধারাবাহিক বক্তব্য রাখেন এবং বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গোপন অধিবেশন করেন, তখন কিশোর ছাত্র ক্ষুদিরাম এই সমস্ত বিপ্লবী আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্পষ্টভাবেই তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন এবং কলকাতায় বারীন্দ্র কুমার ঘোষের কর্মতৎপরতার সংস্পর্শে আসেন। তিনি ১৫ বছর বয়সেই অনুশীলন সমিতির একজন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠেন এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী পুস্তিকা বিতরণের অপরাধে গ্রেপ্তার হন। ১৬ বছর বয়সে ক্ষুদিরাম থানার কাছে বোমা মজুত করতে থাকেন এবং সরকারি আধিকারিকদেরকে আক্রমণের লক্ষ্য স্থির করেন।
১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদিরাম তার বোন অপরূপার স্বামী অমৃতলাল রায়ের সঙ্গে তমলুক শহর থেকে মেদিনীপুরে চলে আসেন।
শিক্ষাজীবন:
ক্ষুদিরাম বসু তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুল এবং মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষালাভ করেন।
বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড:
মেদিনীপুরে তার বিপ্লবী জীবনের অভিষেক। তিনি বিপ্লবীদের একটি নবগঠিত আখড়ায় যোগ দেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন হেমচন্দ্র দাসের সহকারী। এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্রিটিশবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত হতো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ক্ষুদিরাম সত্যেন্দ্রনাথের সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান। ক্ষুদিরাম তারই নির্দেশে 'সোনার বাংলা' শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে গ্রেপ্তার হন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কাঁসাই নদীর বন্যার সময়ে রণপার সাহায্যে ত্রাণকাজ চালান। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে বারীন্দ্র কুমার ঘোষ তার সহযোগী হেমচন্দ্র কানুনগোকে প্যারিসে নির্বাসনে থাকা একজন রাশিয়ান নিকোলাস সাফ্রানস্কি-এর কাছ থেকে বোমা তৈরির কায়দা শেখার জন্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বঙ্গ প্রদেশ ফেরার পর হেমচন্দ্র এবং বারীন্দ্র কুমার আবার দুজনের সহযোগিতায় ডগলাস কিংসফোর্ডকে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেন। কিংসফোর্ড আলিপুর প্রেসিডেন্সি বিচারালয়ের মুখ্য হাকিম ছিলেন, যার হাতে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত এবং যুগান্তরএর অন্যান্য সম্পাদকদের মামলা চলছিল। যাঁদের তিনি কঠোর সাজা শুনিয়েছিলেন। যুগান্তর দ্বন্দ্বমূলক সম্পাদকীয় লিখে তার প্রতিক্রয়া জানায়, ফলে এব্যাপারে আরো পাঁচজন অভিযুক্ত হলে এই সংবাদপত্র ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিরাট আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এসমস্ত অভিযোগে সংবাদপত্রের প্রচার বৃদ্ধি পায় এবং এতে অনুশীলন সমিতির জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী আদর্শ প্রচারের সহায়ক হয়। শুক্লা সান্যালের মতে, বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ একটা আদর্শ হিসেবে প্রত্যক্ষ না-হলেও অঘোষিতভাবে বঙ্গ প্রদেশের জনতার সমর্থন আদায় করেছিল। যুগান্তর মামলার বিরুদ্ধে প্রচারে অংশ নেওয়ায় একজন বাঙালি ছেলে সুশীল সেনকে চাবুক মারার সাজা দেওয়ায় কিংসফোর্ড সাহেবের জাতীয়তাবাদীদের কাছে কুখ্যাতি ছিল। যেমন আলিপুর প্রেসিডেন্সি আদালতে মুখ্য হাকিম হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই নবীন রাজনৈতিক কর্মীদের কঠোর ও নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ করতেন। তিনি ওইসব কর্মীদের শারীরিক নির্যাতনের সাজা দিতেন।
কিংসফোর্ডকে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা :
প্রথম প্রচেষ্টা
হেমচন্দ্রের তৈরি করা বই বোমা দিয়ে কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা করা হয়। একটা ক্যাডবেরি কোকোর খালি টিনে এক পাউন্ড পিকরিক অ্যাসিড এবং তিনটে ডেটোনেটর। এবার এটা হার্বার্ট ব্রুমএর কমেন্টারিজ অন দ্য কমন ল বইয়ের ফাঁপা অংশে প্যাক করা হয়েছিল এবং বাদামি কাগজ দিয়ে মুড়ে নবীন বিপ্লবী পরেশ মল্লিক কিংসফোর্ডের বাড়িতে দিয়ে আসেন। কিংসফোর্ড প্যাকেটটা না-খুলে পরে দেখবেন বলে তার সেলফে রেখে দেন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চে বিচারকের নিরাপত্তার ভয়ে, কিংসফোর্ডের পদোন্নতি করে সরকার তাকে বিহারের মুজাফফরপুর জেলার বিচারপতি হিসেবে বদলি করেন। তার সঙ্গে যায় আসবাবপত্র, লাইব্রেরি এবং বই বোমা।
মুজাফফরপুরে পরিদর্শন-পরিক্রমা:
অনুশীলন সমিতি কিংসফোর্ডকে হত্যা করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছিল। এপ্রিলে দুই সদস্যের একটা পরিদর্শক দল মুজাফফরপুর সফর করে, যাতে যুক্ত ছিলেন প্রফুল্ল চাকি। তাদের ফিরে আসায় বোমা দিয়েছিলেন হেমচন্দ্র, যেগুলো বানানো হয়ছিল ৬ আউন্স ডিনামাইট, একটা বিস্ফোরক এবং কালো পাউডার ফিউজ। প্রফুল্ল চাকি মুজাফফরপুরে ফিরেছিলেন একটা নতুন ছেলেকে নিয়ে, যার নাম ক্ষুদিরাম বসু।
পুলিশের সন্দেহ:
অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ এবং তাদের সহযোগীদের কাজকর্মে পুলিশের সন্দেহ হতে থাকে। কলকাতা পুলিশ কিংসফোর্ডের জীবন বাঁচানোর জন্যে সচেতন হয়ে ওঠে। কমিশনার এফ এল হলিডে মুজাফফরপুর পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের উপেক্ষার বদলে সতর্ক হয়েছিলেন। যাইহোক, চারজন লোককে ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্যে ব্যবস্থা করা হয়। ইতিমধ্যে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি নতুন নাম ধারণ করে যথাক্রমে হরেণ সরকার ও দীনেশ চন্দ্র রায় হয়েছেন, এবং কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত এক দাতব্য সরাইখানায় (ধর্মশালা) তারা বাসা নেন। তাদের অজ্ঞাতবাসের দিনগুলোতে ওই বিপ্লবীদ্বয় তাদের লক্ষ্যের কার্যকলাপ এবং দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নজরদারি করতেন। দুই বিপ্লবী সফলভাবে তিন সপ্তাহের ওপর তাদের পরিচয় গোপন রাখতে পেরেছিল। মুজাফফরপুরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আর্মস্ট্রঙের কাছ থেকে একটা চিঠি নিয়ে সিআইডি অফিসার কলকাতায় ফিরে এসেছিল, যাতে বলা হয়েছিল যে, বিপ্লবীদ্বয় ওখানে পৌঁছায়নি। ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্যে জায়গামতো হাজির হয়েছিল। স্কুল ছাত্রের ভান করে মুজাফফরপুর পার্কে তারা সমীক্ষা করেছিলেন যে, এটা ব্রিটিশ ক্লাবের উলটো দিকে, যেখানে কিংসফোর্ড ঘনঘন আসেন। একজন কনস্টেবল তাদের দেখেছিল।
মুজাফফরপুরে কিংসফোর্ডকে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা :
ভাগ্য ভালোর দিনে, প্রিঙ্গল কেনেডি নামে একজন ব্রিটিশ ব্যারিস্টারের মেয়ে এবং স্ত্রীর সঙ্গে কিংসফোর্ড এবং তার স্ত্রী ব্রিজ খেলছিলেন। তারা রাত ৮.৩০ নাগাদ বাড়ি ফিরতে মনস্থ করেন। কিংসফোর্ড এবং তার স্ত্রী একটা গাড়িতে ছিলেন যেটা কেনেডি এবং তার পরিবারের গাড়ির মতোই দেখতে ছিল। কেনেডি মহিলাগণ কিংসফোর্ডের বাড়ির চত্বর থেকেই যাচ্ছিলেন। যখন তাদের গাড়ি ওই চত্বরের পূর্ব ফটকে পৌঁছায়, ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল গাড়িটার দিকে দৌড়ে যান এবং গাড়িতে বোমাগুলো ছোড়েন। একট প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং গাড়িটা সঙ্গে সঙ্গে কিংসফোর্ডের বাড়িতে আনা হয়। গাড়িটা ভেঙে গিয়েছিল এবং কেনেডি মহিলাগণ ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মিস কেনেডি এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান এবং মিসেস কেনেডি গুরুতর আঘাতের ফলে ২ মে তারিখে প্রয়াত হন।
পলায়ন :
ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল নিজেদের রাস্তায় পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। মধ্যরাতের মধ্যে সারা শহর ঘটনাটা জেনে গিয়েছিল, এবং খুব সকাল থেকেই সমস্ত রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে প্রত্যেক যাত্রীর ওপর নজর রাখা যায়। সকাল পর্যন্ত ক্ষুদিরাম ২৫ মাইল পায়ে হেঁটে ওয়াইনি নামে এক স্টেশনে পৌঁছান। যখন একটা চায়ের দোকানে তিনি এক গ্লাস জল চেয়েছিলেন, তখন তিনি ফতে সিং এবং শিউ প্রসাদ সিং নামে দুজন কনস্টেবলের মুখোমুখি হন, যারা তার ময়লা পা এবং বিধ্বস্ত ও ঘর্মাক্ত চেহারা দেখে কিছু সন্দেহ করেছিল। কয়েকটা প্রশ্ন করার পর তাদের সন্দেহ বেড়ে যায় এবং তারা ক্ষুদিরামকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষুদিরাম তাদের দুজনের সঙ্গে সংগ্রাম শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ দুটো রিভলভারের একটা পড়ে যায়। অন্য রিভলভারটা দিয়ে কনস্টেবলদেরকে গুলি করতে উদ্যত হওয়ার আগেই কনস্টেবলদের একজন ক্ষুদিরামকে পিছন দিক থেকে মজবুত আলিঙ্গনাবদ্ধ করে ধরে ফেলে। নবীনতর এবং হালকা চেহারার ক্ষুদিরামের পক্ষে নিজের প্রতিরক্ষা অথবা অব্যাহতি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিলনা। তার কাছে ৩৭ রাউন্ড গোলাগুলি, ৩০ টাকা নগদ, একটা রেলপথের মানচিত্র এবং একপাতা রেলের সময়সারণি ছিল। ক্ষুদিরাম চিরকালের জন্যে ধরা পড়ে গেলেন! ওয়াইনি রেল স্টেশনটা বর্তমানে নাম বদল করে হয়েছে ক্ষুদিরাম বোস পুসা স্টেশন।
অন্যদিকে প্রফুল্ল কয়েক ঘণ্টা কষ্ট করে অনেকটা হেঁটেছিলেন। দিনের মাঝামাঝি ত্রিগুণাচরণ ঘোষ নামে এক নাগরিক লক্ষ করলেন যে, একজন যুবক তার দিকেই আসছেন। তিনি বোমা বিস্ফোরণে ভীত হয়েছেন এবং অনুভব করেছেন যে, প্রফুল্ল চাকি হলেন সেই অন্য বিপ্লবী। ত্রিগুণাচরণ ঘোষ তার জীবন রক্ষা করে তাকে তার বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে বাঁচাতে চাইছেন। তিনি সেই রাতেই প্রফুল্লর কলকাতায় ফেরার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি সমস্তিপুর থেকে মোকামাঘাট যাওয়ার এবং পরবর্তী যাত্রায় হাওড়া যাওয়ার ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করেন। ট্রেনের একই বগিতে ব্রিটিশ পুলিশের একজন সব-ইন্সপেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জি সফর করছিলেন। একটা কথোপকথনে তিনি ধরে ফেলেন যে, প্রফুল্লই হচ্ছেন সেই অন্য বিপ্লবী। শিমুরিঘাট রেল স্টেশনে প্রফুল্ল যখন জল খাওয়ার জন্যে ট্রেন থেকে নামেন, তখন মিস্টার ব্যানার্জি মুজফফরপুর থানায় একটা টেলিগ্রাম পাঠান। মোকামাঘাট রেল স্টেশনে প্রফুল্লকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেন মিস্টার ব্যানার্জি। প্রফুল্ল তার কাছে থাকা রিভলভার দিয়ে নিজের মতো লড়াই করার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষে যখন দেখেন যে, রিভলভারে একটামাত্র গুলি আছে, তখন তিনি নিজের মুখের মধ্যে গুলি করেন।
হাতে হাতকড়ি লাগানো ক্ষুদিরামকে পয়লা মে মুজফফরপুর থেকে আনা হয়। পুরো শহর থানায় ভিড় করেছিল একদল সশস্ত্র পুলিশকর্মীর ঘিরে থাকা একটা কিশোর ছেলেকে শুধু একপলক দেখার জন্যে। জেলাশাসক মিস্টার উডম্যানের বাড়িতে ক্ষুদিরামকে আনা হয়েছিল। পরের দিন, অর্থাৎ ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২ মে, ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান লিখেছিল:
একটা ছেলেকে দেখার জন্যে রেল স্টেশনে ভিড় জমে যায়। ১৮ অথবা ১৯ বছরের এক কিশোর হলেও তাঁকে রীতিমতো দৃঢ় দেখাচ্ছিল। বাইরে তার জন্যেই রাখা এক চারচাকার খোলা গাড়িতে উঠতে প্রথম শ্রেণীর এক রেল কামরা থেকে বেরিয়ে সে হেঁটে আসছিল, এক উৎফুল্ল কিশোরের মতো, যে কোনো উদ্বেগ জানেনা....গাড়িতে নির্দিষ্ট আসনে বসার সময় ছেলেটা চিৎকার করে বলে উঠল 'বন্দেমাতরম্'।"
উপনিবেশবাদবিরোধী সংগ্রামে যোগ :
ক্ষুদিরাম বসু তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছ থেকে এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি বিপ্লবী রাজনৈতিক দল যুগান্তরে যোগ দেন। একের পর এক বোমা হামলার দায়ে ৩ বছর পর তাকে আটক করা হয়। ৩০ এপ্রিল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মুজাফফরপুর, বিহারে রাতে সাড়ে আটটায় ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা ছুড়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ক্ষুদিরামের বিচার শুরু হয় ২১ মে ১৯০৮ তারিখে যা আলিপুর বোমা মামলা নামে পরিচিত হয়। বিচারক ছিলেন জনৈক ব্রিটিশ মি. কর্নডফ এবং দুজন ভারতীয়, লাথুনিপ্রসাদ ও জানকীপ্রসাদ। রায় শোনার পরে ক্ষুদিরামের মুখে হাসি দেখা যায়। তার বয়স খুব কম ছিল। বিচারক কর্নডফ তাকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাঁসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? ক্ষুদিরাম আবার মুচকে হাসলে বিচারক আবার প্রশ্নটি করেন। ক্ষুদিরাম তখন ওপরে উদ্ধৃত কথাটি বলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ভোর ছ-টায়। ফাসির মঞ্চ ওঠার সময়ে তিনি হাসিখুশি ছিলেন। ক্ষুদিরামকে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা লিখেছিলেন এবং অনেক গানও তখন রচিত হয়েছিল। যেমন, 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি'। তার মৃত্যুর পর ব্রিটিশদের খুন করার জন্য তরুণরা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কে হেমচন্দ্র কানুনগো লিখেছেন যে, ক্ষুদিরামের সহজ প্রবৃত্তি ছিল প্রাণনাশের সম্ভাবনাকে তুচ্ছ করে দুঃসাধ্য কাজ করবার। তার স্বভাবে নেশার মতো অত্যন্ত প্রবল ছিল সৎসাহস। আর তার ছিল অন্যায় অত্যাচারের তীব্র অনুভূতি। সেই অনুভূতির পরিণতি বক্তৃতায় ছিলনা, বৃথা আস্ফালনও ছিলনা; অসহ্য দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, এমনকি মৃত্যুকে বরণ করে, প্রতিকার অসম্ভব জেনেও শুধু সেই অনুভূতির জ্বালা নিবারণের জন্য, নিজ হাতে অন্যায়ের প্রতিবিধানের উদ্দেশ্যে প্রতিবিধানের চেষ্টা করবার ঐকান্তিক প্রবৃত্তি ও সৎসাহস ক্ষুদিরাম চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
তথ্যসূত্র: Wikipedia
Wednesday, August 3, 2022
অতিমারী - Epidemic-2019
প্রত্যেক সন্তান তাঁর মায়ের কাছে শিশু ই থাকে...
Saturday, April 17, 2021
ত্রৈমাসিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা 'ঘরে বসে আঁকো' | Quarterly drawing competition 'Draw at home'.
Thursday, October 29, 2020
Sunday, August 16, 2020
মোনা লিসা (Mona Lisa) চিত্র সমন্ধে কি জান?What do you know about the Mona Lisa image?
Saturday, July 25, 2020
বাংলার গ্রামীন সমাজে পটচিত্র সমন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।
Friday, May 1, 2020
ভারতীয় চিত্রশিল্পী রাজা রবিবর্মা'র জীবনী।
Monday, March 30, 2020
ত্রৈমাসিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা 'ঘরে বসে আঁকো'।
Monday, December 30, 2019
Wednesday, September 11, 2019
Wednesday, May 22, 2019
ছবি আঁকার ক্ষেত্রে পেন্সিলের ভূমিকা
পেন্সিল সমন্ধে কিছু কথা:
লেখার বা অঙ্কনের জন্য একটি যন্ত্র, যা গ্রাফাইটের পাতলা লাঠি বা কাঠের দীর্ঘ পাতলা টুকরাতে আবদ্ধ অনুরূপ পদার্থ বা ধাতব বা প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে সংশোধনযুক্ত।http://fkrt.it/whY6l2NNNN
![]() |
Tuesday, April 23, 2019
শিল্পের ব্যাকরণ, অনুপ্রেরণামূলক পর্ব।
ছবি আঁকা শুরু করার কিছু প্রাথমিক পরামর্শ যা সবার গ্রহণযোগ্য।
| সাংস্কৃতিক শিক্ষালয় (বিজ্ঞাপন) |
ছবি আঁকতে ভালোবাসে না এমন কেউ আছে? আমার মনে হয়, তেমন কোন মানুষ্য খুঁজে পাওয়া দুস্কর। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে শেষ বয়সের মানুষকে হাতে তুলে নিতে দেখা যায় বিভিন্ন রং-বেরঙের পেন্সিল। কথায় বলে- আট থেকে আশি, ছবি আঁকতে ভালবাসি।
যারা ছবি আঁকতে পছন্দ করে অথচ কিছু মারাত্মক ভুল করে বসে এবং সঠিক দিশায় চলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের জন্যেই আজকের এই আয়োজন পর্ব। শিল্পের ব্যাকরণ নামাঙ্কিত লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ জানিয়ে শুরু করছি...
তাছাড়া এই সকল উপকরণ গুলো সহজেই ক্রয় করতে পারবে। তুমি চাইলে অনলাইনেও শপিং করতে পারো।
২. ইরেজার (নন ডাস্ট)।
৩. কাগজ কাটা ছুরি (বাচ্চারা দূরে থাকবে)।
৪. শার্পনার (সবার ব্যবহারযোগ্য)।
৫. ছবি আঁকার কাগজ (আর্ট পেপার উপযুক্ত)।
৬. কাঠবোর্ড (পেপার সাপোর্টের জন্য)।
৭. ক্লিপ (ইজেল ব্যবহারকারী)।
৭. স্কেল (শুধুমাত্র মার্জিন দেওয়ার জন্য)।
৮. মোম রঙ বা পেস্টেল রঙ (প্রাথমিক), পরবর্তীতে জল রঙ, অয়েল রঙ, ফেভরিক রঙ, সশ রঙ, গ্লাস পেইন্টিং ইত্যাদি।
![]() |
| ছবি আঁকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ (সংগৃহিত চিত্র ) |
☑️ এসো শুরু করা যাক সমস্যার ঝুড়ি নিয়ে যেগুলো তোমার মনোবল বারবার ভেঙে চলেছ আর তুমি হতাশার শিকার হয়ে চলেছ।
সমস্যার সমাধান পর্ব এক ~ তোমার আঁকা লাইন সোজা হচ্ছে না, তাইতো তবে ভয়ের কিছু নেই। ‘সরল রেখা‘ তথা সোজা লাইন বলতে বাস্তবে কিছু নেই। শুনতে অবাক লাগলেও কথাটি সত্য ‘সোজা লাইন’ শুধুমাত্র ভেক্টরেই পাওয়া যায়, দুটি বিন্দুর মধ্যে সংযোগকারী বিন্দু রেখাতে মিলিত হয়। তথাপি লাইন সোজা না হলে এখানে মন খারাপের কিছু নেই। সেক্ষেত্রে টিপস হলো যেটাই আঁকার চেষ্টা করছো সেগুলোকে ছোটো ছোটো বিন্দু দিয়ে হালকা করে এঁকে বিন্দু গুলো একই রেখায় যুক্ত করে নেও বা বারংবার সোজা দাগ আঁকতেই থাকো যেমন বাংলা দাগকাটা খাতার মতো।
| ধীরে ধীরে ছবি আঁকার কৌশল |
| মহ: রাসের ইমতিয়াজ (রিজিয়া হাদিয়া মেমোরিয়াল একাডেমি) |
গড়ন, আয়তন, ওজন পরিমাপ ঠিকঠাক না বুঝে আঁকতে যাওয়া ছবির ক্ষেত্রে খুবই অপরিতপ্ত একটা চর্চা। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। একটি সুন্দর ঘর আঁকার পর যদি দেখ একটি জানালা দরজা থেকেও বড় লাগছে, তাহলে উক্ত ছবির মার্জনার ব্যাপারটা চোখে ধরা দেবে। তাই বলে মন খারাপ হয়ে বসে থাকবে তা নয়।তোমার এটা নিশ্চয় জানো - 'ভুলের মধ্যেই শিখন'। সেই জন্য প্রেসপেক্টিভ ঠিক রাখা নিতান্তই প্রয়োজনীয়।
গ্রাম্য এলাকার মাটির বাড়িগুলোর কথা স্মরণ করতে পারো। হতে পারে দরজার মাপ জানালার তিনগুণ হয়।কিন্ত এমন কিছু আইডিয়া ব্রেনে ঢুকিয়ে রাখ যা তোমার আঁকার জন্য ফলদায়ক হয়। তারপর না হয় পরিবর্তনটি তুমি স্বচোখে উপলদ্ধি কর।
![]() |
জ্যমেতির আকারে চিত্রায়ন |
তোমার আঁকা ছবিগুলো কি প্রাইভেট শিক্ষক বা স্কুল শিক্ষকের মতো হচ্ছে না। তা যদি ভেবে থাক তাহলে তোমার ভাবনাটা ঠিক কারন আমি সে বিষয়ে আগের পর্ব দুই নম্বরে 'অনুশীলনীর' কথাটি বলেছি তা মেনে চলতে পারলেই সঠিকতার পথ খুঁজে পাবে। অনেকেই আছে শিক্ষকের কাছে ছবির মূল ভাবনাটি ফুটিয়ে তুলতে পারে না। তাদের মধ্যে অনেকেই ইউটিউবের বা অনলাইনে শিক্ষকের সাহায্যে ছবি আঁকা শিখে থাকে। তাদের একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে উপদেষ্টার মতো সঠিকতার সঙ্গে ছবি আঁকতে না পারা। তাদের জন্য আমি প্রথমেই বলবো যা ইচ্ছে তাই আঁক ইচ্ছে করেই হিজিবিজি মনের আর্তনাদ গুলো তোমার সাদা খাতায় আঁকিবুকি রেখা গুলিকে প্রাণবন্তে জাগিয়ে তোলো দেখবে সাদা খাতার রেখা গুলো সত্যিই একটি চমৎকার রূপ সৃষ্টি হয়েছে। যাকে এককথায় বলা যায় 'হাত খুলে আঁকা'। অর্থাৎ মনের মতো করে দাগ কাটাকাটি কর। তবে মনে রাখবে পেন্সিল শক্ত হাতে না ধরে পেন্সিল হাল্কা করে চেপে ধরবে এতে তোমার খাতার ছাপ অন্য পৃষ্টা বুঝতে না পারে। তাই হালকা করে পছন্দমত দাগ কাটতে থাক। সদাসর্বদা একটা কথা মাথায় রাখবে আঁকতে আঁকতে পেন্সিল ছোট হয়ে যাবে তবুও কখন তুমি ছোট হবে না।
এখানে চিত্রকর এবং চিত্রশিল্পীর মধ্যে পার্থক্য অবতারণা দেখা যায়। হুবহুব চিত্র দেখে আঁকা বা কপি করাটি কখনই চিত্রশিল্পীর কাজ হতে পারে না। তবে ছবি শেখার ক্ষেত্রে কপি করাটা শিক্ষনের মাধ্যম বলা হয়।
কল্পনার শক্তিতে তাড়িত হয়ে ছবির রূপ, রস, গন্ধ আরোহন করে; ছবির আকার ও আকৃতির গড়ন দেওয়ায় ছবির সৌন্দর্য্য বিকশিত হয়। কল্পনা থেকে না আঁকতে পারা ছবি আঁকার ক্ষেত্রে একটি মস্ত ব্যর্থতা। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না মনে রাখতে হবে রেখার গতি কখনই পরিসমাপ্তি ঘটে না সেই মতো আমাদের চলতে হবে।
মাঝে মাঝে এমন কিছু আঁকতে ইচ্ছা করে যা হয়ত এখন চোখের সামনে নেই। তবুও খাতা নিয়ে বসে পড়লে ক্ষতির কিছু নেই বরং চেষ্টাতে তোমার স্মৃতি সমৃদ্ধ ঘটবে। এই রকম সমস্যা তোমার একার নয়, এই সমস্যা আমাদের সবার মধ্যে কমবেশি রয়েছে। অনেক পেশাদার শিল্পীকেও এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কল্পনাশক্তি বাড়ানোর জন্য আগে সেই জিনিস সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, তুমি পড়ন্ত সূর্যাস্তের দৃশ্য আঁকতে চাইছো। প্রথমেই তোমার করণীয় কাজ হবে, উক্ত অবস্থায় সূর্যের আভরণ সুচারু ভাবে চাক্ষুস করতে হবে। তোমার মধ্যে পরিপেক্ষিত দৃশ্যানুযায়ী ধারণাটি তৈরি হলেই তুমি মোটামুটিভাবে একটি সুন্দর সূর্যাস্তের ছবি এঁকে ফেলতে পারবে। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, এঁকে দেখতে পার।
![]() |
নিজের মন থেকে অঙ্কনায়ন |
সমস্যার সমাধান পর্ব ছয় ~
অন্তিম পর্ব তথা রঙ বাছাইয়ের পর্ব: অনেক সময় দেখা যায় অতি যত্নে স্কেস করা সুন্দর ছবি খানি শুধুমাত্র রঙ বাছাইয়ের ভুলে পুরো চমকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে অন্তত কিছুটা সময় দেওয়া যেতেই পারে। কে বলেছে গাছের পাতার রঙ গাঢ় সবুজ হতেই হবে। তুমি রঙিন গাছ আঁকলেও সমস্যা হবার কথা নয়, তবে অবশ্যই গাছের কেরেক্টারে ঠিকঠাক রঙ ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে এবং মনে রাখতে হবে ব্যাকগ্রাউন্ডে সব সময় আলো-ছায়া ব্যাপারটি বজায় রাখে। উষ্ণ রং ও শীতল রং গুলো মাথায় রেখে স্কেস করা ছবির উপর নির্ভয়ে রং চাপাও। তেমনি প্রাথমিক এবং যোগিক রঙের তফাৎটা জানা প্রয়োজন, যথাক্রমে লা-হ-নী এবং বে-ণী-আ-স-হ-ক-লা। রঙের মিশ্রণ করতে লাল, হলুদ, নীল, সবুজ ইত্যাদির সাথে মিশ্র রঙের উৎপত্তি অপরপক্ষে নীল, আকাশী বা ধূসর রঙ মিশবে না। রঙ সম্পর্কে প্রতিটা রঙের একটু করে ট্রয়াল করে বা তুলির টানে আঁচড় দিয়ে দেখতে পারো। চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর মতে - 'রঙের বেঞ্জনা বোঝা বড়ই কঠিন'। তাই রঙের স্বচ্ছন্দবোধ তোমার হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে হবে।
| মোম রঙের ছবি |
দুটি চক্ষুদ্বয়ের অন্তরাল থেকে দিগন্তরেখা পর্যন্ত যা কিছু দেখবে তার খুঁটিনাটি লক্ষ্য করবে এবং আলো-ছায়া, আকার-আয়তন, পরিমাপ ঠিক করতে পারলে একটি ছবি সম্ভব্য রূপাকৃত আসে। সর্বপ্রথম স্কেচের প্রতি নজর দেওয়া অত্যাবশ্যক। সবকিছু এঙ্গেলে দেখার চেষ্টা করবে। আর কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মনে থেকে ড্রইং করতে থাকবে। ফলাফল নিয়ে একটু ভাববে না, এখানেও একটি কথা মাথায় রাখবে 'কষ্টেই কেষ্ট মেলে' তাই আগে পিছে না ভেবে শুধু স্কেচ করে যাও। নিজের চতুর্দিকের জিনিস থেকেই শেখার চেষ্টা কর। উদারণসরূপ বলা যায় ইনডোরের মাধ্যমে তোমার বাড়ির রান্না ঘরের সাজ সবজি থেকে শুরু করে যাবতীয় আসবাবপত্র পর্যন্ত সব কিছুই স্কেচ বা স্টিল স্টাডি করতে পারো। এছাড়াও আউটডোরে গিয়েও স্টাডি করতে পারো। যেমন - আম গাছের পাতা, পাকুড় গাছের পাতা, একটি স্থির বাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ভাবেই নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকলে পরবর্তীতে তোমার আঁকা ছবির মধ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে। আমার আশা নয় বিশ্বাস তুমি পেরেছো, তুমি পারছো এবং তুমি পারবে। তোমার আত্মবিশ্বাস; তোমার অন্তনিহিত শক্তি; তোমার অন্তরে লুপ্ত অবস্থায় আছে সেটিকে জাগিয়ে তোল, তোমার সাফল্য নিশ্চিত সেই আশা নিয়ে শেষ করলাম। ভালো থাকবে, ধন্যবাদ।
Monday, December 3, 2018
লোকশিল্প
![]() |
| লোকশিল্প চিত্র |
Thursday, November 29, 2018
কোলাজ
![]() |
| কোলাজ চিত্র |
ক্যানভাসে বা কাগজের বোর্ডে রঙিন কাগজ, কাপড়ের টুকরো ছেঁড়া চট, সিগারেট প্যাকেট, নারকেলের ছোবড়া, খালি দেশলাইয়ের প্যাকেট বা দেশলাই কাঠি, গাছের ছাল ও পাতা, তুলো ইত্যাদি সাইজ মত ছিঁড়ে নিয়ে কেটে আঠা দিয়ে সাঁটা হয় এবং তা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপাকৃতি দৃশ্য সৃষ্টি করা হয়।
যদিও কোলাজ পদ্ধতি চিত্রশিল্পের প্রথাগত ধ্যান ধারনা বিপরীতমুখী স্রোত, তবুও একে ফাইন আর্টস এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছোট শিশু শিল্পীদের যদি এই পদ্ধতিদেখিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তারা সহজেই বহুরূপ ও দৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের বুদ্ধির বিকাশ ঘটতে পারে। আজকাল কোলাজ পদ্ধতিতে ছবি করে তার ফটো তুলে পরে ব্লক করে বিজ্ঞাপনের কাজে বা বইয়ের প্রচ্ছদ হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে।
কাটুম কুটুম
![]() |
| কাটুম কুটুম চিত্র |
অবিন্দ্রানাথ বাঁশের গাঁট থেকে উড়ন্ত পাখি, গাছের শাখা প্রশাখা থেকে চপ্পল হরিণ, এছাড়া গাছের বাকল, সুপারির খোসা, নারকেলের ছোবড়া, আমের আঁটি তালের আঁটি, নারকেলের মালাই পাথরের টুকরো, দড়ি ইতালি থেকে গিরগিটি, কুকুর, বেড়াল, মাছ, প্রজাপতি ইত্যাদি তৈরি করলেন এবং তাদের নাম করন করলেন।
কাটুম কুটুম এর সবচেয়ে বড় দিক হলো এই শিল্পের কোন কপি বা অনুরূপ সৃষ্টি পাওয়া সাধারণত সম্ভব নয়। এর প্রতিটি রূপই হয় স্বতন্ত্র। তাই এই শিল্পে বুদ্ধি ও সৃজনীক্ষমতা বিকাশের একটা বিরাট দিক থাকে। আজকাল চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি কাটুম কুটুম প্রদর্শনীও দেখা যায়। কাটুম কুটুম এর সৃষ্টিগুলি দর্শককে প্রচন্ড আকৃষ্ট করে তোলে কারণ পরিত্যক্ত জিনিসের মধ্যে যে অপূর্ব রূপ আবিষ্কার বিস্মিত করে।
Wednesday, November 28, 2018
লোকশিল্প
![]() |
| লোকশিল্প চিত্র |
.jpeg)

















