Charukala Shilpo Niketan

Art and Craft School

Thursday, November 29, 2018

কোলাজ

কোলাজ চিত্র
কোলাজ: রং তুলে ছাড়াও যে ছবি সৃষ্টি করা যায় কোলাজ পদ্ধতি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিউবিজম শিল্প আন্দোলনের শেষ পর্যায় এই কোলাজ পদ্ধতি উদ্ভব হয়। পিকাসোও কোলাজ পদ্ধতিতে কিছু ছবি করেছিলেন। কেউ কেউ পিকাসোকে কোলাজ পদ্ধতিতে উদ্ভাবক বলেন।
              ক্যানভাসে বা কাগজের বোর্ডে রঙিন কাগজ, কাপড়ের টুকরো ছেঁড়া চট, সিগারেট প্যাকেট, নারকেলের ছোবড়া, খালি দেশলাইয়ের প্যাকেট বা দেশলাই কাঠি, গাছের ছাল ও পাতা, তুলো ইত্যাদি  সাইজ মত ছিঁড়ে নিয়ে কেটে আঠা দিয়ে সাঁটা হয় এবং তা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপাকৃতি দৃশ্য সৃষ্টি করা হয়।       
              যদিও কোলাজ পদ্ধতি চিত্রশিল্পের প্রথাগত ধ্যান ধারনা বিপরীতমুখী স্রোত, তবুও একে ফাইন আর্টস এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছোট শিশু শিল্পীদের যদি এই পদ্ধতিদেখিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তারা সহজেই বহুরূপ ও দৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের বুদ্ধির বিকাশ ঘটতে পারে। আজকাল কোলাজ পদ্ধতিতে ছবি করে তার ফটো তুলে পরে ব্লক করে বিজ্ঞাপনের কাজে বা বইয়ের প্রচ্ছদ হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে।

কাটুম কুটুম

কাটুম কুটুম চিত্র
কাটুম কুটুম: অবিন্দ্রানাথ ঠাকুর উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি অনেকটা কোলাজ পদ্ধতির মতই বাতিল ও ফেলে দেওয়া জিনিস পত্রের টুকরো ভাঙা কাঠের টুকরো, গাছের ছাল, শুকনো ডাল, শিকড় ইত্যাদির মধ্য বস্তুর আবিষ্কার করা এবং তা ঘষে-মেজে, জোড়া লাগিয়ে বা ভাব-ভঙ্গি ও ছন্দ তুলে ধরা। গাছের গুঁড়ি, শাখা প্রশাখা, গাছের শিকড়, বাঁশের গাঁট ইত্যাদির মধ্য অসংখ্য রূপ, বস্তু ও জীবজন্তুর আকৃতি পাওয়া যায়।
                    অবিন্দ্রানাথ বাঁশের গাঁট থেকে উড়ন্ত পাখি, গাছের শাখা প্রশাখা থেকে চপ্পল হরিণ, এছাড়া গাছের বাকল, সুপারির খোসা,  নারকেলের ছোবড়া, আমের আঁটি তালের আঁটি, নারকেলের মালাই পাথরের টুকরো, দড়ি ইতালি থেকে গিরগিটি, কুকুর, বেড়াল, মাছ, প্রজাপতি ইত্যাদি তৈরি করলেন এবং তাদের নাম করন করলেন।
                    কাটুম কুটুম এর সবচেয়ে বড় দিক হলো এই শিল্পের কোন কপি বা অনুরূপ সৃষ্টি পাওয়া সাধারণত সম্ভব নয়। এর প্রতিটি রূপই হয় স্বতন্ত্র। তাই এই শিল্পে বুদ্ধি ও সৃজনীক্ষমতা বিকাশের একটা বিরাট দিক থাকে। আজকাল চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি কাটুম কুটুম প্রদর্শনীও দেখা যায়। কাটুম কুটুম এর সৃষ্টিগুলি দর্শককে প্রচন্ড আকৃষ্ট করে তোলে কারণ পরিত্যক্ত জিনিসের মধ্যে যে অপূর্ব রূপ আবিষ্কার বিস্মিত করে।

Wednesday, November 28, 2018

লোকশিল্প

লোকশিল্প চিত্র
লোকশিল্প: লোকশিল্প গ্রামীণ সমাজ জীবনকে প্রতিফলিত করে। গ্রামীণ জীবনযাত্রা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা উৎসব ইত্যাদির চিত্র, দেয়ালে চিত্র ও ভাস্কর্যের রূপকেই লোকশিল্প বলে। পটশিল্প এই লোকশিল্পের একটি অন্যতম প্রধান আঙ্গিক। সংস্কৃতির চিত্রিত রূপই হল লোকশিল্প। লোকশিল্প বা ফোক আর্টের উদাহরণ হল উড়িষ্যার জগন্নাথের পট, কালীঘাটের পট, বাঁকুড়ার ঘোড়া, পুরুলিয়ার মুখোশ ইত্যাদি।


লোকশিল্প চিত্র




Monday, September 24, 2018

সাদা ও কালো কে কি রং বলা যায়?

সাদা ও কালো কে কি রং বলা যায়?
  উত্তরঃ সাদা ও কালো রং বিশেষ কোন নয়। কোন বর্ণ না থাকলে সে জিনিস কালো দেখায়। আর সমস্ত বর্ণ উপস্থিত থাকলে সেই জিনিস কে সাদা দেখায়। কালো কাপড়ের ওপর যখন সাদা আলো পড়ে তখন ঐ কাপড় সাদা আলোর সাতটি রঙকেই শুষে নেয়। কোন আলোর রশ্মি প্রতিফলন করে না। সেজন্য কালো দেখায়। আবার সাদা কাপড়ের ওপর সাদা আলো পড়লে ঐ কাপড় সাতটি রঙের আলোর রশ্মিকেই প্রতিফলন করে সেইজন্য সাদা দেখায়। বৈজ্ঞানিক সত্য হচ্ছে সাতটি রঙ যেখানে ঘন হয়ে আসে সেখানে দেখা দেয় শুভ্রতা আর সব রঙ যাকে ত্যাগ করে সেটি হয়ে ওঠে কৃষ্ণবর্ণ।

Wednesday, July 25, 2018

বাংলা শিল্প ঐতিহ্যর প্রতীক

                           যামিনী রায়

                 রায়, যামিনী (১৮৮৭-১৯৭৩)  উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার আধুনিক চিত্রকলা ইতিহাসের একজন শিল্পি। বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৌখিন শিল্পি পিতা অবসর জীবন গ্রামে কাটান, যেখানে বেশ কয়েক ঘর কুমারের বাস ছিল। শিল্পিমনা পিতা এবং স্বীয় গ্রামের কুমোর পাড়ার প্রভাব যামিনী রায়ের শিল্পি জীবন অন্বেষায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। ১৯০৬ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ইউরোপীয় অ্যাকাডেমিক রীতিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। আর্ট স্কুলে ইতালীয় শিল্পি গিলার্দি ও পরে অধ্যক্ষ পার্সি ব্রাউনের সংস্পর্শে এসে তিনি প্রাচ্য-প্রতীচ্যের উভয় শিল্পের কলা-কৌশলের সাথে পরিচিত হন। জীবনের প্রারম্ভে তিনি পাশ্চাত্য রীতি গ্রহণ করেন এবং এতে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। এ সময় তিনি পেশাদার শিল্পি জীবনে প্রবেশ করেন ও পাশ্চাত্যের বিখ্যাত পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পি সেজান, ভ্যান গগ ও গগ্যাঁ-র অনুকরণে নিরীক্ষাধর্মী ছবি অংকন করেন। কিন্তু এর পাশাপাশি  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নব্য-বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও আগ্রহের কারণে তেল রঙে নব্য-বঙ্গীয় রীতির ব্যঞ্জনায় আবহমান বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকার দৃশ্য তাঁর চিত্রপটে তুলে ধরেন। এসময় প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের উভয় ধারার চিত্রে তাঁর নিজস্ব শিল্প রীতিতে লোক শিল্পের সারল্য, বলিষ্ঠভাব, সমতলীয় রঙ, সুদৃঢ় রেখা ইত্যাদি ফুটে ওঠে। শিল্পি যামিনী রায় শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় অ্যাকাডেমিক রীতির আড়ম্বরপ্রিয়তা পরিহার করে দেশজ সরল রীতিতে চিত্র নির্মাণে ব্রতী হন। বাংলার লোকজ পুতুল, শিশুদের অাঁকা চিত্র ইত্যাদি তিনি তাঁর ছবির ‘ফর্ম’ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বিষয় হিসেবে বেছে নেন গ্রাম বাংলার সরল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখর চিত্র, ধর্মাশ্রয়ী কাহিনী যেমন- রামায়ণ, শ্রীচৈতন্য, রাধা-কৃষ্ণ ও যীশু। এছাড়া বেলিয়াতোড় গ্রামের আশেপাশের গ্রামগুলির সাঁওতালদের জীবনের চিত্ররূপ ‘সাঁওতাল জননী ও শিশু’,‘মাদলবাদনরত সাঁওতাল’, ‘নৃত্যরত সাঁওতাল’ ইত্যাদি। বর্ণাঢ্য রঙ ওছন্দোময় রেখার ঐকতানের মাধ্যমে তিনি তাঁর চিত্রে এক নিজস্ব ভাবের উন্মেষ ঘটান।
কৃষ্ণ-বলরাম (অনু. ১৯৩২), শিল্পি যামিনী রায় মহান শিল্পি পিকাসো-র ন্যায় যামিনী রায়ের শিল্পি জীবনে বিভিন্ন পর্ব লক্ষণীয়। শিল্পি জীবনের প্রাথমিক পর্বে তিনি ছিলেন ইউরোপীয় পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্টদের কাছাকাছি। এরপর তাঁর রেখায় দেখা দেয় কুমোর পাড়ার পুতুল গড়ার সৌষ্ঠবের অনুপুঙ্খ রূপের প্রাচুর্য; আরেক পর্বে কালীঘাট চিত্রকলার সুডৌল রেখার আলিম্পন। এ রীতিতে তিনি ত্রিমাত্রিকতা পরিহার করে সমতলীয় বর্ণিল চিত্রপটে অবলিলাক্রমে নির্মাণ করে যান কাহিনী ব্যতিরেকে ‘মা ও শিশু’, ‘রাঁধা-কৃষ্ণ’, ‘যীশু’ ইত্যাদি। শিল্পি জীবনের সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে যামিনী রায় নিজস্ব উদ্ভাবিত শৈলী বা চিত্রভাষায় ছবি অঙ্কন করে যশস্বী হয়েছেন। তাঁর এ শৈলীর নাম তিনি দিয়েছিলেন ফ্ল্যাট টেকনিক (flat technique)। সে সময় বেঙ্গল স্কুলের জয়জয়কার ছিল বলে কেউ তাঁর এই টেকনিক গ্রহণ করেননি।
                 ১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া স্ট্রিটে যামিনী রায়ের ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয়। সে সময় পরিচয় নামক কলকাতার এক ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর শিল্পকৃতির আলোচনা হওয়ার ফলে তাঁর ছবি পরিচিতি লাভ করে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতে আগত মার্কিন সৈনিক ও অফিসারবৃন্দ যামিনী রায়ের নয়নাভিরাম চিত্র দেখে তা অধিক মূল্যে ক্রয় করার ফলে তাঁর ছবির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। গ্রাম-বাংলার পটুয়াদের শিল্পকর্মের মতো ধনী-নির্ধন সবার কাছে যাতে তাঁর চিত্র সহজলভ্য হয় সেজন্য শিল্পি যামিনী রায় অসংখ্য চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর চিত্র স্বল্পমূল্য ও সহজলভ্য করার জন্য পটুয়াদের মতো তিনি তাঁর চিত্রে দেশজ উপাদান যেমন- ভূষোকালি, খড়িমাটি, বিভিন্ন লতাপাতার রস থেকে আহরিত রং ব্যবহার করতেন। পটচিত্রের আদলে নির্মিত প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর যামিনী রায়ের চিত্র আজও শিল্পামোদী, এমনকি চিত্রবিমুখ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।